ছবি ঘর | নির্মাণ তথ্য | খাবার | কৃষি | স্বাস্থ্য | প্রযুক্তি | দেশ | পড়াশোনা | লগইন

শরিয়তের উৎস কি কি আলোচনা কর

শরিয়তের উৎস চারটি। উৎস গুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

শরিয়তের প্রথম উৎস - কুরআনঃ-

শরিয়তের সর্ব প্রথম ও সর্ব প্রধান উৎস হলো আল কুরআন। ইসলামি শরিয়তের সকল বিধি বিধানের মূল উৎসই হলো আল কুরআন। এর উপর ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। আল কুরআন শরিয়তের অকাট্য ও প্রামাণ্য দলিল। মানব জীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইঙ্গিত আল কুরআনে বিদ্যমান।

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস - সুন্নাহঃ-

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। সুন্নাহ অর্থ রীতিনীতি। ইসলামি পরিভাষায় মহানবী (সা.) এর বানী, কর্ম ও তার সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয়। সুন্নাহ হল আল কুরআনের ব্যাখ্যা স্বরূপ। মহান আল্লাহ আখিরাত সম্পর্কে আমাদের পুরোপুরি সাবধান ও সতর্ক করেছেন। সুতরাং মহানবী (স.) তাঁর সুন্নাহের মাধ্যমে এসব বিধি বিধান ও বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

" আর আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করেছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যা তাঁদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে। "

সুন্নাহ বা হাদিস শরিয়তের অন্যতম দলিল ও উৎস। আল কুরআনের পরই এর স্থান।

শরিয়তের তৃতীয় উৎস - ইজমাঃ-

শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা। ইজমা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ একমত হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে কোনো বিষয় বা কথায় ঐক্যমত্য পোষণ করেকে ইজমা বলে। ইসলামি ভাষায় শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতদের পুণ্যবান মুজাহিদগণের ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়। ইজমা কুরআন সুন্নাহ সমর্থিত হওয়া আবশ্যক। ইজমা আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা ও নিয়ামত।

শরিয়তের চতুর্থ উৎস - কিয়াসঃ

শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস। কিয়াস শব্দের অর্থ হলো অনুমান করা, তুলনা করা, পরিমাপ করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় কুরআন ও সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করে পরবর্তীতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেওয়াকে কিয়াস বলে। অন্য কথায়, কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমাতে যে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না ইসলামি মূলনীতি অনুযায়ী বিচার- বুদ্ধি প্রয়োগ করে সে সমস্যার সমাধান করাকেই কিয়াস বলা হয়। কিয়াস ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উৎস। ইজমার পরেই এর স্থান।

উৎস ও ব্যবহারঃ-

ইসলাম বিষয়ক এই লিখাটি ইন্টারনেট ও বিভিন্ন বই থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লিখা হয়েছে। এই লিখাটি সবার জন্যে উন্মুক্ত। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছাড়া যে কেউ এই লিখাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত বিষয়

বিষয়: শানে নুযুল কাকে বলে ও শানে নুযুল অর্থ কি?

বিষয়: ঈমান কাকে বলে ও ইমান শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: শরিয়তের উৎস কি কি আলোচনা কর

বিষয়: শরিয়ত বলতে কি বুঝায়, শরিয়ত শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: আখিরাত কাকে বলে, আখিরাত শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: আসমানি কিতাব কাকে বলে, কিতাব শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: রিসালাত কাকে বলে, রিসালাত শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: মুনাফিক কাকে বলে, মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য কয়টি ও কি কি?

বিষয়: নিফাক বলতে কী বোঝায়, নিফাক শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: তাওহীদ কাকে বলে ও তাওহীদ শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: শিরক কাকে বলে, শিরক কত প্রকার ও কি কি?

বিষয়: কুফর কাকে বলে ও কুফর শব্দের অর্থ কি?

বিষয়: আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে দশটি বাক্য লিখ

বিষয়: ইসলাম কাকে বলে ও ইসলাম শব্দের অর্থ কি?